Facts About Jainism



Facts About Jainism জৈন ধর্মমত

খ্রিস্ট পূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে ভারতে যে প্রতিবাদী ধর্মান্দোলনের উদ্ভব হয়েছিল তার মধ্য দুটি ছিল – জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মমত। মোটামুটি ৬৩টি ধর্মমতের মধ্যে এই দুটি বর্তমানে জীবিত রয়েছে। জৈন ধর্মমতের উত্থান বৌদ্ধ ধর্মের পূর্বে ঘটে। মোট ২৪ জন ধর্মগুরু বা তীর্থংকরের নাম পাওয়া যায় জৈন ধর্মমত সূত্রে। ২৩তম হলেন পার্শ্বনাথ এবং ২৪তম হলেন মহাবীর।  

 

মহাবীরের সংক্ষিপ্ত জীবন Bibliography of Mahavira

প্রকৃত নামবর্ধমান
উপাধিমহাবীর, নির্গ্রন্থ, জিন, ন্যায়পুতা
জন্ম৫৪০ খ্রি. পূ.
জন্মস্থানবৈশালীর কুণ্ডগ্রাম
পিতাসিদ্ধার্থ
মাতাত্রিশলা (লিচ্ছবি রাজকন্যা এবং চেতকের ভগ্নী)
স্ত্রীযশোদা
বর্ণক্ষত্রিয়
বংশন্যায় (জ্ঞাতৃকা)
দিব্যজ্ঞান লাভজীম্বিকাগ্রাম / ঋজুপালিকা (নদী)
সঙ্গীগোশালা মক্ষলিপুত্ত
মৃত্যু৪৬৮ খ্রি. পূ. রাজগিরের নিকট পাবাপুরীতে

জৈন ধর্মমত  Doctrines of Jainism

জৈন ধর্মমতের তিনটি প্রধান দিক হল-

  • চতুর্যাম
  • পঞ্চমহাব্রত
  • ত্রিরত্ন
চতুর্যাম 

চতুর্যাম হলো ২৩ তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথের প্রবর্তিত চারটি নীতির সমষ্টি যেগুলি জৈন ধর্মমতাবলম্বীরা মেনে চলত। এই চারটি নীতি এইরূপ-

  1. অহিংসা
  2. সত্য
  3. অচৌর্য
  4. অপরিগ্রহ
পঞ্চমহাব্রত Five Principles or Fundamentals of Jainism

পঞ্চমহাব্রত হলো পাঁচটি নীতি। চতুর্যাম ব্রতের সঙ্গে মহাবীর আরো একটি নীতি ‘ব্রহ্মচর্য‘ যোগ করেন। এই পাঁচটি নীতি একত্রে ‘পঞ্চমহাব্রত’ নামে পরিচিত।

ত্রিরত্ন Three Jewels of Jainism

জীবনের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তিনটি মূল নীতি অনুসরনের কথা জৈন ধর্মে বলা হয়ে যা ত্রিরত্ন রূপে পরিচিত। এই তিন নীতি হল-

  1. সম্যক জ্ঞান (ধর্মীয় নীতি সমূহের জ্ঞান)
  2. সম্যক বিশ্বাস (জৈন মতে বিশ্বাসী)
  3. সৎ আচরণ (পঞ্চমহাব্রত পালনকারী)

জৈন দর্শন Philosophy of Jainism

বৈদিক রীতি ও বৈদিক কর্তৃত্বকে অস্বীকারের মধ্যেই জৈন ধর্মের দর্শন ব্যক্ত হয়েছে। এতে ঈশ্বরের কথা বলা হয়নি বরং কর্মের মধ্য দিয়ে জীবনচর্যা এবং মোক্ষলাভের পথে উত্তীর্ণের কথা বলা হয়েছে। অহিংসার মাধ্যমে মোক্ষলাভের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব- এই হল জৈন ধর্মের মূলকথা। এই ধর্মমতে মোটামুটি চারটি নীতিবাদ রয়েছে। তা আলোচিত হল –

  1. অনেকান্তবাদ – সত্যের স্বরূপ অনন্ত। বহু দৃষ্টিকোণে এর উপলব্ধি পাওয়া যায়।
  2. ন্যায়বাদ – একটিমাত্র দৃষ্টিকোণে বাস্তব সত্যকে বিচার করা।
  3. সপ্ত-ভঙ্গীন্যায় – সত্যকে উপলব্ধি করতে ৭ রকমের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ।
  4. স্যাদবাদ – শর্তসাপেক্ষে সত্যকে উপলব্ধি করার উপায়

জৈন ধর্মের বিভাজন Sects of Jainism

বর্ধমান মহাবীরের মৃত্যুর পর জৈন ধর্মমতে দুটি বিভাজন লক্ষ করা গেছে। এই বিভাজন বিশেষত পোশাক পরিধান এবং জীবনচর্যার প্রকৃতি অনুসারে হয়েছে –

দিগম্বরভদ্রবাহুর অনুগামী
পরিধেয় বস্ত্র ত্যাগের কথা বলা হয়েছে
দাক্ষিণাত্যে এর প্রচার হয়েছিল
শ্বেতাম্বরস্থূলভদ্রের অনুগামী
শ্বেতবস্ত্র পরিধানের কথা বলা হয়েছে
উত্তর ভারতে এর প্রচার হয়েছিল

জৈন সম্মেলন Jain Councils

২টি জৈন সম্মেলনের কথা জানতে পারা যায়-

প্রথম সম্মেলন
  • আনুমানিক ৩০০ খ্রি. পূ. সংঘটিত হয়।
  • স্থূলভদ্রের নেতৃত্বে পাটলিপুত্রে এই সম্মেলন আহূত হয়।
  • এই সম্মেলনে ‘দ্বাদশ অঙ্গ’ সংকলিত হয়।
দ্বিতীয় সম্মেলন
  • আনুমানিক ৫১২-১৩ খ্রি. পূ. আহূত হয়।
  • বলভীতে (বর্তমানে গুজরাটে) এই সম্মেলন অনুষ্ঠীত হয়েছিল।
  • দ্বাদশ উপাঙ্গ নামে অনুশাসন সংকলিত হয়।
  • সভাপতি ছিলেন দেবরধি ক্ষমাশ্রমণ

Also Read :

  • Facts About Jainism
    খ্রিস্ট পূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে ভারতে যে প্রতিবাদী ধর্মান্দোলনের উদ্ভব হয়েছিল তার মধ্য দুটি ছিল – জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মমত। মোটামুটি ৬৩টি ধর্মমতের মধ্যে এই দুটি বর্তমানে জীবিত রয়েছে। জৈন ধর্মমতের উত্থান বৌদ্ধ ধর্মের পূর্বে ঘটে। মোট ২৪ জন ধর্মগুরু বা তীর্থংকরের নাম পাওয়া যায় জৈন ধর্মমত সূত্রে। ২৩তম হলেন পার্শ্বনাথ এবং ২৪তম হলেন মহাবীর। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!